কিশোরগঞ্জে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, নীরব প্রশাসন !
নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবারও মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও উপস্থিতি জানান দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগসহ দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দিবসকে কেন্দ্র করে এসব অতর্কিত কর্মসূচি পালনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকাশ্য রাস্তায় স্বল্প সময়ের জন্য ঝটিকা মিছিল করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র।
সর্বশেষ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে এমন আকস্মিক মিছিলের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রকাশ্য রাজপথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মিছিল করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সময়োপযোগী ও কার্যকর কোনো প্রতিরোধ বা তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দল বা সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল, জমায়েত কিংবা কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মসূচি পালিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করা। অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, সংগৃহীত ভিডিও বিশ্লেষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট যাচাই এবং জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নেওয়া জরুরি।
তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ করে তাড়াইল উপজেলায় সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পুলিশের দৃশ্যমান কোনো জোরালো অভিযান বা পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের মাঝে এক ধরনের গা-ছাড়া মনোভাব ও অনীহা পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে গাফিলতির অভিযোগ নাকচ করে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ঘটনাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট থানার এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মিছিলের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের এমন প্রকাশ্য মহড়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব ছোটখাটো মিছিলকে কেন্দ্র করে যাতে এলাকায় বড় ধরনের সংঘাত, সহিংসতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রশাসনকে ‘ধীরে চলো’ নীতি পরিহার করে দৃশ্যমান কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক না ছড়ায়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।