বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: ড. মঈন খান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বহুমুখী এবং নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যৌথ উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান, হালাল খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) সংযোজন ও আমদানি, ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন এবং উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সফরটি অত্যন্ত সফল হওয়ায় হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, “বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় দুই লাখ নতুন জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এই দুই লাখের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।”
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি বৈধভাবে কাজ করছেন। দেশটিতে কর্মরত অনিবন্ধিত প্রবাসী কর্মীদের বৈধ কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ নতুন কর্মী প্রেরণের পাশাপাশি অনিবন্ধিত কর্মীদের নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।”
বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে নিছক কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে রূপান্তরিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়া দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।