প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলা বাতিলের দাবি জমিয়তের
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের পূর্বঘোষিত আশ্বাস ও নির্বাচনি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ’ শাখার মজলিসে আমেলার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী এসব কথা বলেন।
মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানীর সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন— নগর সহ-সভাপতি মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা আবুল বাশার, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা বিন ইয়ামিন, মাওলানা সলীমুল্লাহ খান হানাফী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা আনোয়ার হামিদী, মুফতি নাসির বিন নুর ও মাওলানা জুবায়ের আহমদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে গভীরভাবে বিশ্বাসী। তাই এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করবে। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করা এ দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
বৈঠকে জমিয়ত নেতারা বলেন, শিক্ষা কারিকুলামে এমন কোনো বিষয় জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না, যা দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের পরিপন্থী বা সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হতে পারে। এর পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষায় কোরআন শিক্ষা, সুপ্রোথিত নৈতিক শিক্ষা, চরিত্র গঠন, বিজ্ঞানমনস্কতা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, ভাষা দক্ষতা এবং দেশীয় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যেকোনো জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
জমিয়তের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়ে বলা হয়, শিক্ষাবিদ, আলেম-উলামা, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakholders) সাথে ব্যাপকভিত্তিক আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। একই সাথে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত দৃশ্যমান করার তাগিদ দেন নেতারা।
এআইএল/সকালবেলা
|