পীরগাছা শিক্ষা অফিসে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধার অভিযোগ
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ভিডিও ধারণে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পীরগাছা প্রেস ক্লাব।
জানা যায়, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহের লক্ষ্যে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী পীরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যান।
সেখানে পীরগাছা প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দৈনিক সকালবেলা ও তিস্তা সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব, দৈনিক জনবাণী ও চ্যানেল এস-এর উপজেলা প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী এবং রাজধানী টেলিভিশনের প্রতিনিধি জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, তারা যখন উদ্ভূত বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফরহাদ হোসেন খন্দকারের বক্তব্য গ্রহণ ও ভিডিও ধারণ করছিলেন, ঠিক সেই সময় অফিস সহায়ক তাজরুল ইসলাম (তাজুল) তাদের পেশাগত কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণে সরাসরি বাধা দেন এবং সাংবাদিকদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক ও উগ্র আচরণ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে আনা হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিকার করেননি বলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেন।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পীরগাছা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রবিউল আলম বিপ্লব বলেন, “সাংবাদিকদের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি দপ্তর জনগণের সেবার জন্য, কোনো লুকোচুরির জায়গা নয়। সেখানে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও তীব্র নিন্দনীয়।”
পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ সরকার বলেন, “ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও তিনি রহস্যজনক কারণে সন্তোষজনক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ী কর্মচারীর বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় পীরগাছার সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।”
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, “সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহে সহযোগিতা করা সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইনি দায়িত্ব। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভিডিও ধারণে বাধার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এইচআরএইচ/সকালবেলা
|