আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি: জামায়াত নেতা তাহের

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ণ
আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি: জামায়াত নেতা তাহের

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, “জাতীয় সংসদে মন্ত্রীরা যদি অধিবেশন চলাকালে মাসে একবার কথা বলে, আমি অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন দু-তিনবার কথা বলতে পারি। অতএব, আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি।”

রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে নিজের সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, “আমার অফিসিয়াল স্ট্যাটাস হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী। আজকে আমার গাড়িতে পতাকা আছে। পতাকা নিয়েই আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আমার বাসা থেকে এ পর্যন্ত আমি পুলিশ প্রটোকলে এসেছি। তাহলে প্রটোকল কারা পায়? মন্ত্রীরাই পায়। এটা আমি গর্ব নিয়ে বলছি না। বিরোধী দলে থেকেও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়া গৌরবের বিষয় না? আমরা বাংলাদেশে এখন স্ট্রং ভূমিকায় আছি।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের দাবি করে তিনি বলেন, “চৌদ্দগ্রামের বিএনপির কিছু নেতার চাইতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি আমাদের মূল্যায়ন করেন। আমার চৌদ্দগ্রামে একটু বেশি পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলেছেন।”

আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আমাদের চেয়ে ১০ পার্সেন্ট ভোট বেশি পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে। প্রধান বিরোধীদল মানে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে।”

নিজ নির্বাচনি এলাকার বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্তবর্তী সরকার থাকাকালীন এ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। নির্বাচন অতিবাহিত হয়েছে মাত্র তিন মাস। এরই মধ্যে এলাকার উন্নয়নের আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, তাহলে এই বরাদ্দ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।”

এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংকে ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে ডা. তাহের বলেন, “চৌদ্দগ্রামের মৌলিক সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা। চৌদ্দগ্রামে এই দুটোর স্থান হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছয় মাস সময় দিলাম। আপনারা অন্য কোনো ব্যবসা খুঁজেন। ছয় মাসের পরেও যদি এই রাস্তায় থাকেন, তাহলে বুঝা গেল, আপনারা ইচ্ছে করেই এই রাস্তায় আছেন। ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য আপনারা ঘর থেকে বের হবেন। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে।”

উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানী

মন্তব্য করুন