হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে ‘আত্মরক্ষা’ বলল ইরান

প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে ‘আত্মরক্ষা’ বলল ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (ফাইল ছবি: সংগৃহীত)।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে থেকে বৈধ আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অব্যাহত নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রেক্ষাপটে তেহরানের এমন অবস্থানের কথা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র বাঘাই বলেন, “ইরান সার্বিক কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। কিন্তু যে পক্ষ প্রকাশ্যে কোনো গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহী নয়, তাদের সাথে একতরফাভাবে টেবিলে বসা সম্ভব নয়।” ওয়াশিংটনের আরোপিত অবরোধকে সরাসরি ‘শত্রুতামূলক যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান বর্তমানে কার্যত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক উসকানি ও আগ্রাসনের কারণেই তেহরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তবে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরান বহুপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে বলে জানান বাঘাই। তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী সোমবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান, ইরাক এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এক জরুরি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। বিশেষ করে নিরাপদ সমুদ্র করিডোর তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যকার সাম্প্রতিক প্রাথমিক আলোচনার অগ্রগতিও এই টেবিলে চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক হালনাগাদ বিবৃতিতে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন নৌ অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। সেন্টকমের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই প্রণালিতে দ্বিতীয় দফায় কড়া অবরোধ জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ জোরপূর্বক ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে জুনের মাঝামাঝি প্রথম দফার অবরোধে ১৯৪টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন এবং ৯টি জাহাজকে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অকেজো বা চলাচলের অযোগ্য করে দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির পুরো জলসীমার নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে। চূড়ান্ত সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী দাবির পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে নিজস্ব ভৌগোলিক ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরল।

মন্তব্য করুন