অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলাকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে রূপান্তর করা যায় কিনা—তার সুনির্দিষ্ট সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ এবং কাজী নজরুল ইসলাম আসলে একটি ‘অবিভাজ্য সত্তা’। তিনি আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের সার্থক রূপকার, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রধান বাতিঘর এবং আমাদের জাতীয়তাবাদের মহান পথিকৃৎ। কবির জন্মজয়ন্তীর এই ক্ষণে আমাদের শপথ নিতে হবে যেন সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সমস্ত বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে আমরা বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করতে পারি।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আর মাত্র দুদিন পরই বাঙালির পরম প্রিয়জন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম শুভ জন্মবার্ষিকী। এই মাহেন্দ্রক্ষণে কবির চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করছি।” এ সময় বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জাতীয় কবিকে জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ সম্মান না জানানোর তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে আমি আরেকজন মহান মানুষকে গভীর কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করতে চাই, তিনি হলেন মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ। ১৯১৪ সালে তিনিই প্রথম বালক নজরুলকে মায়ায় আগলে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন।”
জাতীয় কবির প্রতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো ইতিহাসের এই সত্যটি জানেন না যে, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার নামাজ শেষে কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শুধু তাই নয়, ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক বর্ণাঢ্য র্যালিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বশরীরে অংশ নিয়েছিলেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও অবিনশ্বর নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, শোষিত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল এক আলোর মশাল হয়ে। কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয় এবং এক অভূতপূর্ব রুচির বিপ্লব। তিনিই প্রথম বাংলা কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন এবং কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ও আত্মিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে চিরকাল জাগ্রত থাকবেন।”
কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নজরুল সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাঁর জীবনবোধ ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। আর এরই ধারাবাহিক অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির অমূল্য স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করার রূপরেখা তৈরি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি।”
এআইএল/সকালবেলা