নোয়াখালীতে গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীতে গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মো. ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীতে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম আদালতের আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম জোরদারে স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও অংশীজনদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মিনি কনফারেন্স কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ফেরদৌসী বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সমন্বয় সভায় বক্তারা মাঠপর্যায়ে গ্রাম আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরেন। সভায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জানান, বর্তমান আইনি এক্তিয়ার অনুযায়ী তিন লাখ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত গ্রামীণ বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ জেলা আদালত বা থানায় না গিয়ে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমেই আইনিভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তবে নিয়মনীতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনায় যথেষ্ট সক্রিয় নন এবং পরিষদের নির্দিষ্ট এজলাস ব্যবহারে সচেতনতার তীব্র অভাব রয়েছে। তাঁদের শতভাগ সক্রিয় ও সচেতন করা গেলে গ্রামীণ বিচারিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে।

এই বিষয়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যে যোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের পূর্ণ সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে না পারলে গ্রাম আদালত কোনোভাবেই পুরোপুরি সক্রিয় হবে না। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি) শাখা থেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

গ্রাম আদালতের সেবাকে তৃণমূলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিত প্রচারণার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জানান, জুমার নামাজের খুতবায় গ্রাম আদালতের গুরুত্ব ও আইনি সুবিধা নিয়ে প্রচারণার জন্য পূর্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ইমামদের উদ্দেশ্যে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী আগামীতেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রচারণা জোরদার রাখা হবে।

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামীণ অসহায় নারীদের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করে সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের মাঠপর্যায়ের উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র ও প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।

গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন সভার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “আজকের এই বিশেষ সমন্বয়ের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালতের ধারণাকে সম্পৃক্ত করা; যাতে গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী খুব সহজেই গ্রাম আদালতের নিখরচায় আইনি সেবা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সামান্য বিরোধে আদালতে গিয়ে অর্থ ও সময় নষ্ট না করে।”

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ফেরদৌসী বেগম মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে গ্রাম আদালতের প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। একই সাথে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো বড় সেমিনারে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাম আদালত প্রকল্পের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন