ট্রাইব্যুনালে জিয়াউর রহমান হত্যার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর
আইন ও আদালত প্রতিবেদক
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) হাজির করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হবে বলে প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
এর আগে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালে স্বশরীরে হাজির (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে বিগত শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। আজকের শুনানিতে তাকে ওই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাবে প্রসিকিউশন। এর আগে ২১ জুলাই এই প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদনটি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরদিন ১৬ জুলাই বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে নিয়ম অনুযায়ী সেনা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক একটি মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল ২১ জুলাই। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে প্রতিবেদন জমার জন্য অতিরিক্ত দুই মাস সময় চাওয়া হলেও, উক্ত ঘটনায় মোজাফফরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশের অভিযোগ ওঠায় আদালত কোনো নতুন তারিখ দেননি। ফলে সমন্বিত শুনানির সুবিধার্থে তাকেও আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি এক গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তৎকালীন সময়ে গঠিত সামরিক আদালতে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কয়েকজন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে মোজাফফর হোসেন অন্যতম আসামি ছিলেন।
|