সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত শুরু
বহুল আলোচিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন জমা দেওয়া গ্রাহকদের আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো থেকে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
তবে পরবর্তী দিনগুলোতে যাঁরা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আজ সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একাধিক শাখা সরেজমিনে ঘুরে অর্থ ফেরতের এই কর্মযজ্ঞ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে প্রতিটি শাখায় পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া মানবিক ও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেও বিশেষ বিবেচনায় টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর নয়াপল্টন শাখায় (সাবেক গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) টাকা তুলতে আসা শারমিন জাহান জানান, তিনি গত ৩ সেপ্টেম্বর টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা দিয়েছিলেন। ব্যাংকের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আরও দুই দিন পর তাঁর টাকা পাওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর সন্তান হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিষয়টি লিখিতভাবে শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তিনি কাউন্টার থেকে তা গ্রহণ করেন।
তবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আসা দিদার নামের আরেক গ্রাহককে তাঁর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করায় তাঁকে আরও দুই দিন পর আসতে বলা হয়েছে। তবে ১ সেপ্টেম্বর আবেদনকারীদের সরাসরি কাউন্টার থেকে টাকা বুঝে পেতে দেখে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নিজের অর্থ যথাসময়ে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, টাকা ছাড় করার পূর্বে আবেদনকারীদের ঋণসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সরকার কর্তৃক একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কোনোটিতেই সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর কোনো খেলাপী ঋণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর সিস্টেমে ইনপুট দিয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য যাচাই করা হয়। কোনো গ্রাহক যদি আগে থেকেই খেলাপী হন বা তাঁর নামে অপরিশোধিত কোনো ঋণের তথ্য পাওয়া যায়, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় পাঠানো হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যাদের কোনো খেলাপী ঋণ নেই, তারা নির্বিঘ্নে নির্ধারিত অর্থ তুলতে পারছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, পুরো অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমটি খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে সরাসরি তদারকি করছে। ব্যাংকটির পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় কোনো আমানতকারীর অর্থ হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই। তাই অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে সব অর্থ একবারে তুলে না নিয়ে গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।