উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬ জারি ইসির

প্রকাশ: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬ জারি ইসির
নির্বাচন কমিশন ভবনের দৃশ্য (প্রতীকী ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচনকে অধিকতর অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬’ চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই নতুন বিধিমালার প্রজ্ঞাপন কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন আচরণবিধিমালার সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান পরিবর্তন হলো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টারের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দল উপজেলা নির্বাচনের কোনো স্তরেই পোস্টার ছাপাতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে কোনো ভবন, প্রাচীর, গাছপালা, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের প্রচারসামগ্রী সাঁটানো বা ঝোলানোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় নিয়ন্ত্রণ এনে বিধিমালার সুস্পষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, নৌযান কিংবা রেলগাড়ি ব্যবহার করে কোনো ধরনের শোভাযাত্রা বা শক্তির মহড়া সম্পূর্ণ দণ্ডনীয়। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক আধুনিকতার সঙ্গে মিল রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী যদি ডিজিটাল প্রচার চালাতে চান, তবে প্রচারণা শুরুর পূর্বেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা অ্যাকাউন্টের আনুষ্ঠানিক তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যয় হওয়া প্রতিটি অর্থের হিসাব প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ডিজিটাল প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) অপব্যবহার ও ডিপফেক ঠেকাতে বিধিমালার আওতায় বিশেষ প্রতিরোধমূলক অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর অনুসারী এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর, বিকৃত, বিদ্বেষমূলক বা বিভ্রান্তিকর কোনো কনটেন্ট কিংবা ভিডিও-অডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে পারবেন না। ধর্মের অপব্যবহার, উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য বা উপহার বিতরণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা অপব্যবহার রোধেও বিধিমালায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি গাড়ি, বাংলো, প্রচারযন্ত্র বা কোনো প্রকার প্রশাসনিক সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ভিআইপি পদমর্যাদার ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারণায় যুক্ত হতে পারবেন না। ভোটের দিন ভোটারদের ব্যক্তিগত খরচে কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য গাড়ি ব্যবহারের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।

নতুন এই আচরণবিধি কার্যকরে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কোনো প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টের গুরুতর অসদাচরণ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সরাসরি ওই প্রার্থীর ‘প্রার্থিতা বাতিল’ করার চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

মন্তব্য করুন