নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সংকট থাকলেও সরকার দেশি-বিদেশি স্টেকহোল্ডারদের সাথে কার্যকর আলোচনা, আন্তর্জাতিক দরকষাকষি এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।”
বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকালে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের অ্যানেক্স অডিটোরিয়ামে ‘দ্য ল কম্পাস ডায়ালগ’ শীর্ষক বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর)’ এই সংলাপের আয়োজন করে।
জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশে তেলের দাম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৈশ্বিক অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে একেকটি সুযোগ (অপরচুনিটি) হিসেবে নিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে সফল নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে অল্টারনেটিভ সোর্সিং (বিকল্প উৎস) নিশ্চিত করেছি। ফলে বর্তমানে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানির ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভালো ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছি।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে এমন একটি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, যার ক্ষমতার মূল ভিত্তিই হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পর গত প্রায় আড়াই মাস ধরে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি ধারাকে ধরে ধরে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করা শুরু করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ও অভূতপূর্ব। তিনি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিজে প্রচুর সময় দিচ্ছেন এবং কাজ তদারকি করছেন।”
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট স্থিতিশীল রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রে কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে এবং এর সুফল হিসেবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে।
আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থান থাকবে। এমন রাজনীতি থাকবে যেখানে কোনো ধরনের অপপ্রচার থাকবে না। কারণ অপপ্রচার মূলত একটি অপরাজনীতি, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে এর কোনো স্থান হওয়া উচিত নয়।”