আদালতে এসে গরমে ক্ষোভ প্রকাশ সালমান এফ রহমানের
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাঁদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়৷
আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যানটি থামার পর কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রথমে সালমান এফ রহমানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন। এ সময় নিয়মানুযায়ী দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁকে ভারী বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, প্রতিরক্ষামূলক হেলমেট এবং হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। চড়া রোদের মধ্যে এই ভারী সুরক্ষাকবচ পরানোর সাথে সাথেই তিনি তীব্র বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে উপস্থিত পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বলেন, “এই তীব্র গরমে এসব (বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট) পরে তো আমি মরেই যাবো। অনেক গরম, খুব গরম পড়ছে আজকে।”
সালমান এফ রহমানের ক্ষোভ প্রকাশের পর প্রিজন ভ্যান থেকে একে একে নামানো হয় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকে। তাঁদের তিনজনকে কড়া পুলিশি পাহারায় সরাসরি আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআইডি ও পুলিশের দায়ের করা মানি লন্ডারিংয়ের পৃথক দুটি মামলায় আজ তাঁদের আদালতে হাজিরার দিন ধার্য ছিল।
এদিকে, তাঁদের নামানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পর আরেকটি প্রিজন ভ্যানে করে একই আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করা হয় কারাবন্দি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আজ তাঁকে আদালতে আনা হয়।
প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় দেখা যায়, জুনাইদ আহমেদ পলক গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। তিনি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাঁধে ভর দিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে প্রিজন ভ্যান থেকে নিচে নামেন। তবে অন্য আসামিদের মাথায় হেলমেট থাকলেও পলকের মাথায় কোনো হেলমেট দেখা যায়নি। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে তিনি অত্যন্ত ক্ষীণ স্বরে বলেন, “আমি সরাসরি হাসপাতাল থেকে আসছি, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। শরীরে ব্যথা এখনো তীব্র রয়েছে।” তবে কারাপ্রশাসনের নির্দেশে তাঁকে ঠিক কোন হাসপাতাল থেকে আদালতে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। পরে পুলিশ তাঁকেও দ্রুত আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায়।
জান্নাত সকালাবেলা
|