বাজেটে স্বস্তি সাধারণ মানুষের
শফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: মূল্যস্ফীতির নোংরা চাপে পিষ্ট সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য একগুচ্ছ বড় সুখবর নিয়ে এলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন জাতীয় বাজেট।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল মেগা বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ কমাতে এবং বাজারে স্বস্তি ফেরাতে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং প্রবীণদের ফ্রিতে ট্রেন ভ্রমণের মতো বেশ কিছু নজিরবিহীন জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাজেটের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি। বর্তমানে বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হয় না। অর্থমন্ত্রী এটি বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছেন।
নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধারাও পাচ্ছেন বিশেষ কর রেয়াত।
বাজারের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি ও লবণের মতো ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে উৎস কর এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে; যা আগে ছিল ২ থেকে ৫ শতাংশ। এর ফলে খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুতই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে সব ধরনের কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিসের খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে। এ ছাড়া হার্টের রিংয়ের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের লেন্সের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানোর জন্য শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে মোবাইল সিম কার্ডের ওপর থাকা ৩০০ টাকা ট্যাক্স পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার উৎস কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও কমবে।
জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সম্মান জানাতে বাজেটে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নাগরিকরা সারা দেশে ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফ্রি) ভ্রমণ করতে পারবেন। এ ছাড়া মেট্রোরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তারা ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন।
নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ৪১ লাখ নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় এনে মাসে ২,৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেশ করা এই বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং নিট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই ৫৫তম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট। নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই অর্থবছর কার্যকর হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|