দেশকে কী দিতে পারলাম সেটিই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ণ
দেশকে কী দিতে পারলাম সেটিই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বজনদের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। (ছবি: সংগৃহীত)

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদ এবং মারাত্মকভাবে আহতদের পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্যের হাতে সরকারি চাকরির আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা ও সহায়তা হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের হাতে এই নিয়োগপত্রসমূহ প্রদান করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু।

নিয়োগপত্র প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আবদুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি ও শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রানী। এ ছাড়া আন্দোলনে গুরুতর আহত মো. আবদুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারের হাতেও সরকারি চাকরির এই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার রক্ষায় জনগণের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "এসব ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা; যেখানে দেশের নাগরিকরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবে।"

সরকার ও রাষ্ট্রের নানা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান আরও বলেন, "আমাদের সামনে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সেই বাস্তবতার নিরিখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা ব্যক্তি হিসেবে কী পেলাম সেটি বড় বিষয় নয়, বরং দেশকে আমরা কী দিতে পারলাম—সেটিই মুখ্য। এই উদার নীতি ও লক্ষ্য সামনে রেখে সততার সঙ্গে কাজ করলে শিগগিরই আমরা প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমর্থ হব।"

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের অসামান্য আত্মত্যাগের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত বীর জুলাইযোদ্ধা সোহেলি তামান্না উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন