বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক টানাপড়েন কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বার্তা

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক টানাপড়েন কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বার্তা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ
অনলাইন ডেস্কঃ কূটনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ধৈর্য এবং সহনশীলতাই কূটনৈতিক সফলতার মূল চাবিকাঠি। যেকোনো জটিল সমস্যার টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চলমান প্রেক্ষাপটে সেই মৌলিক কূটনৈতিক তত্ত্বটিই আবারও প্রাক্সিক সত্য হয়ে সামনে এসেছে। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো, যখন নানা টানাপড়েনে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে কিছুটা অবিশ্বাসের মেঘ জমেছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বৈরিতা বজায় রাখা কোনো পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনে না। কূটনীতিতে জেদ বা ইগোর জায়গা নেই—দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলই প্রতিটি অসামঞ্জস্য মেটানোর আসল পথ। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ অতীতের অস্বস্তি কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় ফেরানোর এক দূরদর্শী বার্তা বহন করে।উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক অত্যন্ত জটিল সময় পার করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দায়িত্বহীন কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে উভয় দেশের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। ভিসা কার্যক্রম সীমিত হওয়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাঁধাগ্রস্ত হওয়া এবং সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিক্ততা বৃদ্ধি পায়।

তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে স্বাভাবিক ও সম্মানজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' (বাংলাদেশ ফার্স্ট) পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো নিজের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করা।ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এ বছর একজন প্রবীণ ও হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দীনেশ ত্রিবেদীকে হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনার ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, অভিন্ন আকাশ ও বাতাসের মতো দুই দেশের মানুষের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনাও অভিন্ন। ফলে পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।

নানা বাস্তব কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখা থেকে শুরু করে চলতি বছর শেষ হতে যাওয়া ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের সাথে পারস্পরিক আলোচনা ও ইতিবাচক বোঝাপড়া অত্যন্ত জরুরি।প্রধানমন্ত্রীর এই মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রমাণ করে—বাংলাদেশ তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের বিষয়ে বিন্দুমাত্র আপস না করেই কূটনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করছে। 'বিগ ব্রাদার' সুলভ মনোভাব পরিহার করে যদি পারস্পরিক সমমর্যাদা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ভারত এগিয়ে আসে, তবেই দুই দেশের জনগণের কল্যাণে এই কূটনৈতিক পথচলা সুদূরপ্রসারী ও সুফলদায়ক হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন