মদনে বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকারের অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ণ
মদনে বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকারের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

মো. সাকের খান, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠানের আনন্দের মধ্যেই গোবিন্দশ্রী গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার গোবিন্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বখাটে যুবক পলাশ (১৮) একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার শিশুটির মামার বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়িতে উৎসবে মেতেছিলেন আত্মীয়স্বজনরা। পরদিন শনিবার সকালে শিশুটি পাশের গোবিন্দশ্রী বাজারে ঘুরতে যায়। সেখানে বখাটে পলাশ শিশুটিকে ১০ টাকার সিগারেট কিনে আনতে দোকানে পাঠায়। শিশুটি সিগারেট এনে দিলে পলাশ তাকে ফুঁসলিয়ে বিদ্যালয়ের পেছনে নিয়ে বলাৎকার করে।

পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে ফিরে এলে তার পরনে রক্ত দেখতে পান স্বজনরা। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি পুরো ঘটনাটি তার নানিকে খুলে বলে। কিন্তু সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হওয়ায় এবং ভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করার সাহস পায়নি। পরে ঘটনাটি বাজারের ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত পলাশ বাজারে এলে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে মারধর করে বাজার থেকে তাড়িয়ে দেন।

গোবিন্দশ্রী বাজারের পল্লী চিকিৎসক মো. খায়রুল ইসলাম জানান, শিশুটির নানি ও মামা তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। পরীক্ষার পর শিশুটির পায়ুপথে রক্তপাত ও ক্ষতের আলামত পাওয়া যায়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছেন।

শিশুটির নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "বাড়িতে বিয়ের আনন্দ চলছিল। আমার ছোট নাতিটা বাজারে গিয়েছিল। ফিরে আসার পর প্যান্টে রক্ত দেখে জানতে চাইলে সে ঘটনা প্রকাশ করে। আমরা গরিব মানুষ, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পলাশ দাবি করে, "আমি তাকে কেবল সিগারেট আনতে দোকানে পাঠিয়েছিলাম। কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটাইনি। আজ বাজারে গেলে কয়েকজন আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।"

স্থানীয় বাসিন্দা ভুট্টো জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা শোনার পর পলাশকে বাজারে পেয়ে মারধর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি আইনি সহায়তা নেয়, তবে গ্রামবাসী তাদের পাশে থাকবে।

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন