প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭ সমঝোতা স্মারক সই
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ের তিয়াওইউথাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র জানান, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতাগুলো সই হয়। ১৭টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ১৩টি দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, ৩টি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং ১টি রাজনৈতিক দল পর্যায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপি ও চীনের ক্ষমতাসীন চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সরকারি সূত্র ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পর্যায়ে সই হওয়া ১৩টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বিডার সঙ্গে হওয়া ৩টি সমঝোতার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। অন্যদিকে, বিএনপি ও সিপিসির মধ্যকার সমঝোতার মাধ্যমে দুই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও রাজনৈতিক সংলাপের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, "এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও অবকাঠামোর গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে।"
সফরের শেষ দিন শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর উন্নয়ন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সংলাপের জন্য ‘টু প্লাস টু’ (২+২) কাঠামো এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্রিকস (BRICS) সদস্যপদসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর। গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের দালিয়ানে যান এবং পরে ২৫ জুন বেইজিংয়ে পৌঁছান। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে শুক্রবার বিকেলেই বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সরকারপ্রধান।
|