মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন: এমপি বাদশা
ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, "মাদক বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বগ্রাসী সংকটে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টায় এই ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।"
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরজুড়ে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনেও প্রায় সব সংসদ সদস্য মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার, যা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিষাক্ত থাবা বিস্তার করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২১টি ওয়ার্ডে দ্রুত মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি থেকে অন্ধকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা স্থানীয় যুবক তানভীরের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এক লাখ নার্স নিয়োগের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত ২০২৫ সালে জেলায় ১ হাজার ৮০৩টি অভিযান পরিচালনা করে ৭০২টি মামলায় ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, টাপেন্টাডল ও দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া চলতি ২০২৬ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত গত পাঁচ মাসে ৮৩৮টি অভিযানে ৩৩৬টি মামলায় ৩৫০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে কঠোর আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জেলায় সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোস্টার ও স্টিকার প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণ, মাইকিং এবং ১৪টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং সেবা প্রদান।
বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জিললুর রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রায়হান উদ্দিন মোরাদ পিপিএম এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ধর্মীয় নেতা, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এআইএল/সকালবেলা
|