কিশোরগঞ্জে মসজিদে তওবা করে ৫ মাদক কারবারির আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মসজিদে তওবা করে ৫ মাদক কারবারির আত্মসমর্পণ

নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে মাদকের বিস্তার রোধ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সদর উপজেলার সতাল পাক্কার মাথা এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদে প্রকাশ্যে তওবা পড়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে অন্ধকার পথ থেকে সুপথে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচজন চিহ্নিত মাদক কারবারি।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজ শেষে মসজিদের পেশ ইমামের মাধ্যমে পবিত্র আল্লাহর ঘরে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আর কখনোই মাদক ব্যবসা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ব্যতিক্রমী এই মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী পাঁচ ব্যক্তি হলেন— সতাল ভট্টাচার্যপাড়া এলাকার আরফান শাহের ছেলে শাহানশাহ, মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রুবেল মিয়া, মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. রাসেল মিয়া, হুসেন মিয়ার ছেলে মো. টুটুল মিয়া এবং আলী হুসেনের ছেলে মো. সাঈদী। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মুসল্লি অংশ নেন। বক্তারা মাদকাসক্তি ও মাদক ব্যবসার ভয়াবহ সামাজিক ও পারিবারিক কুফল তুলে ধরে সমাজকে রক্ষায় একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত কিশোরগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল নূর তারেক মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, “কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাক্কার মাথা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের প্রভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমান সরকার ও প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে।”

তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এলাকায় মাদক কেনাবেচা বা কোনো অপরাধের তথ্য থাকলে তা গোপনে পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধু মহলের প্রতি বাড়তি নজর রাখতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দেশ ও সমাজকে মাদকমুক্ত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা কারও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতে চাই না বা কাউকে শারীরিক আঘাত করতে চাই না। যারা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে ভুল পথে চলে গেছে, তাদের পবিত্র আল্লাহর ঘরে এনে তওবার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইটনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. মোবারক হুসেন, বায়তুন নূর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হক এবং অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী আত্মসমর্পণকারী পাঁচ যুবককে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে নিতে সব ধরনের সামাজিক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং পুরো সতাল এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন