পীরগাছায় নুসরাত হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ণ
পীরগাছায় নুসরাত হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান নুপুর (২০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষরাতে উপজেলার সতন্তরা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পীরগাছা উপজেলার সতন্তরা এলাকার মৃত নূর নবী মিয়ার ছেলে খালিদ হাসান মিলু (২৫) এবং তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিসা (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নুসরাত জাহান নুপুরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই সময় নিহতের ভাই আল আমিন সরকার বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

দীর্ঘ তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সম্প্রতি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, নুসরাতের মৃত্যু আত্মহত্যায় হয়নি, বরং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পরই পুরো মামলার মোড় ঘুরে যায়।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর নুসরাতের স্বামী আহাদ মিয়া বাদী হয়ে খালিদ হাসান মিলুসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে পীরগাছা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন। আজ ২৬ জুন মামলাটি (নং-২৮) রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পরপরই পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। থানার এসআই মোস্তফা কামাল, এসআই আব্দুল আলিম ও এএসআই সাজ্জাদসহ পুলিশের একটি চৌকস দল সতন্তরা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পরপরই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে। বৈজ্ঞানিক ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন