২০২৯ সালের মধ্যে চালু হবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর: নৌপরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
২০২৯ সালের মধ্যে চালু হবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর: নৌপরিবহনমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাওয়া কক্সবাজারের ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর’ আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। এই গভীর সমুদ্রবন্দরটি চালু হলে তা শুধু বাংলাদেশের বাণিজ্যের সক্ষমতাই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে না, বরং অদূর ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুট ও আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু বা ‘হাব’ হিসেবে গড়ে উঠবে।গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই মেগা মহাপরিকল্পনার কথা জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।সংসদে লিখিত উত্তরে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে প্রায় ১৬ মিটার গভীরতার (Draft) একটি বিশাল নৌ-চ্যানেল এবং সর্বাধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই মেগা টার্মিনাল ও চ্যানেলটি সফলভাবে চালু হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ (TEU) ধারণক্ষমতার বিশাল কনটেইনারবাহী মাদার ভেসেল এবং প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টন (DWT) ধারণক্ষমতার বিশালাকার মালবাহী কার্গো জাহাজ কোনো ধরনের জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বন্দরে এসে ভিড়তে (বার্থিং নিতে) পারবে।বর্তমান প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে এখন যে আকারের জাহাজগুলো আসতে পারে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরটি চালু হলে তার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি ধারণক্ষমতার বিশাল মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি জেটিতে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে পণ্য খালাসের সময় ও আমদানি-রপ্তানি ও লজিস্টিকস খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক গতি আনবে।একই সঙ্গে, এই গভীর সমুদ্রবন্দরটি ভারত (বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ), নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রানজিট কার্যক্রমে ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী ও অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।মেগা প্রকল্পের এই অগ্রগতির মাঝেই দেশের মন্ত্রিসভায় রদবদলের হাওয়া লেগেছে। সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন