স্টাফ রিপোর্টার: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে কোনো ধরনের সৌজন্যবোধ বা শৃঙ্খলা খুঁজে পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিরোধী শিবিরের ছাত্রসংগঠনগুলো বর্তমানে প্রকাশ্য রূপে ভালো ব্যবহার দেখালেও অন্তরালে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও চরিত্র কী, তা দেশবাসীকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।
আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর ট্রাস্ট’ আয়োজিত ‘জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের মঙ্গলের জন্য যে নিরলস কাজগুলো করছেন, অথচ সেই জাতীয় উদ্যোগগুলো নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যেভাবে উপহাস করছেন, সরকারের সাথে অসহযোগিতা করছেন এবং কটু ভাষায় কথা বলছেন, তা একটি সচেতন জাতি কখনো আশা করতে পারে না।” নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা হুট করে রাজনীতিতে আসিনি। দীর্ঘ ৩৫-৪০ বছর ধরে ছাত্র রাজনীতি করতে করতে রক্ত, শ্রম, ঘাম, জেল-জুলুম ও নানামুখী নির্যাতন সহ্য করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দীর্ঘকাল নির্বাসিত ও সংগ্রামী জীবন পার করেছেন।”
রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও পরিমিতিবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু রাজনীতির ভেতরে ন্যূনতম ভদ্রতা ও শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। অশালীন আচরণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যগুলোকে আমাদের অবশ্যই আমলনামায় রাখতে হবে। আমরা দেখলাম গতকাল শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। আন্দোলনের আগে থেকেই তাঁর রাজনৈতিক বয়স ও পরিপক্বতা আমরা দেখছি। রাজনীতির যে সাধারণ শিষ্টাচার, তা কি তাঁর মাঝে বিন্দুমাত্র আছে? তাঁর বক্তব্যে তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন।”
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গতকাল মূলত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝিনাইদহে মহড়া দিয়েছেন। তিনি কাদেরকে সাথে নিয়ে সেখানে গিয়েছেন? যারা একসময় এদেশের ছাত্র রাজনীতিকে চরমভাবে কলঙ্কিত করেছিল এবং ছাত্র আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে কালিমা লেপন করেছিল, তাদের নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছেন।”
বিদ্যমান বিরোধী দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোর অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আজকে যারা বিরোধী দলে রয়েছেন, তাদের ছাত্র সংগঠনের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কি আমাদের ধারণা নেই? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পূর্বের রূপ আমরা দেখিনি? আজ তারা কৌশলে বাইরে ভালো ব্যবহার দেখাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে ভেতরটা কি তাদের ভালো? এটিও জাতিকে গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। সামনে অনেক দীর্ঘ পথ, এই জটিল সময় আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পাড়ি দিতে হবে।”
এআইএল/সকালবেলা