বাঁধনের ওপর হামলা প্রমাণ করে আ.লীগ রাজনৈতিক দল নয়: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ণ
বাঁধনের ওপর হামলা প্রমাণ করে আ.লীগ রাজনৈতিক দল নয়: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপের দেশ ইতালিতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার কড়া নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই বর্বরোচিত হামলা আবারও প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ ‘মাফিয়া গ্যাং’।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সাথে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ আসলে কী বস্তু, এই দল কারা করে এবং তাদের চরিত্র কী—এ বিষয়টি আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আক্রমণকারীরা আবারও জাতির সামনে স্পষ্ট করে হাজির করেছে। আমরা আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না, এটি মূলত একটি মাফিয়া গ্যাং। কেউ কেউ আলাপ তোলার চেষ্টা করে যে আওয়ামী লীগ কেন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না; অথচ বাঁধনের সাথে যা ঘটেছে, তা নতুন করে বুঝিয়ে দিল এই মাফিয়াদের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে এ দেশের মাটিতে আর কখনো রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া সমীচীন হবে কিনা।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ অতীতে যেসব নৃশংসতা ঘটিয়েছে, সেগুলোর পর তাদের ন্যূনতম আত্মোপলব্ধি বা দুঃখবোধ থাকলে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা থাকলে বিদেশের মাটিতে এমন সহিংসতা চালাত না। আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হওয়াই প্রমাণ করে যে বাঁধন নীতি ও ন্যায়ের সঠিক পথে ছিলেন।”

বিদেশে হামলার ঘটনার আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট জানান, “এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশ অর্থাৎ ইতালির মাটিতে আইনানুগ যে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সেই কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ঘটনাকে আমরা মোটেও হালকাভাবে নেব না, জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

কথোপকথনের একপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শেখ হাসিনার আর কোনো ধরনের আপিল করার সুযোগ অবশিষ্ট নেই এবং তাঁর জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডই অপেক্ষা করছে।” একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী ভারত যদি শেখ হাসিনার বিতর্কিত মুখ বন্ধ রাখতে পারত, তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটত।

জাতীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, বিমানবহরে নতুন করে উড়োজাহাজ যুক্ত করা জরুরি। বোয়িং ক্রয়ের ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কোনো তাৎক্ষণিক নেতিবাচক চাপ পড়বে না। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার পাশাপাশি ইউরোপের এয়ারবাসও সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া জ্বালানি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সমুদ্রবক্ষে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) স্থাপনের বিষয়ে ইতিমধ্যে চীনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এই মেগাপ্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।

মন্তব্য করুন