সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতে পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার যদি প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে, তবে পুলিশের কাজ বাস্তবায়নে এবং অপরাধ দমনে ‘ক্রসফায়ার’ পরিচালনা করতেও বাহিনীটির সদস্যরা পিছপা হবেন না বলে চরম বার্তা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক দৈনিক ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে আইজিপির এই কড়া অবস্থান সামনে আসে।
চকবাজারে অনুষ্ঠিত ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, "দেশে সাধারণ মানুষের সুখে-শান্তিতে নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর পুলিশের আবশ্যিক প্রয়োজন রয়েছে। মনে রাখতে হবে, নাগরিকের স্বাধীনতা আছে বলেই যা ইচ্ছা তা-ই করে ফেলার অধিকার কারও নেই।"
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি বা দেশে ফেরা প্রসঙ্গে স্পষ্ট মন্তব্য প্রকাশ করে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, "শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন বা আসবেন, এটি পুলিশের কোনো দেখার কিংবা অগ্রাধিকার বিষয় নয়। তবে দেশের ভেতর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা কিংবা কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালায়, তবে পুলিশ কালবিলম্ব না করে শতভাগ আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
সাধারণ জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য বিনীত আহ্বান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, "কথায় কথায় প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার দায় এককভাবে পুলিশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। সংবিধান অনুযায়ী আমাদের অর্পিত দায়িত্ব স্বচ্ছতার সাথে পালন করতে দিন। আমাদের বাহিনীর কোনো সদস্য নিজের অপরাধে লিপ্ত হলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আমরা অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কেবল তখনই আপনারা যৌক্তিক প্রশ্ন তুলতে পারেন।"
পাড়া-মহল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং এর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের পাশাপাশি পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেন আইজিপি। তিনি জানান যে, গত দুই মাসে অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিচারিক তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।
সকালবেলা / নুসরাত