হালাল খাবার বিশ্ব খাদ্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ
হালাল খাবার বিশ্ব খাদ্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ: তথ্যমন্ত্রী
রাজধানীর এক হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: হালাল খাবার বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংস্কৃতির এক অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল মুসলিম বিশ্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি, শক্তি ও ইতিবাচক সম্পদে রূপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘Think Halal, Grow Global’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, "হালাল খাদ্য, হালাল সংস্কৃতি এবং এর অন্তর্নিহিত সুস্থ মূল্যবোধ কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের শক্তি নয়; এটি পুরো মানবজাতির কল্যাণ ও বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখার বিশাল সম্ভাবনা বহন করে।"

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের সুবিশাল ও ক্রমবর্ধমান বাজারের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও জানান, হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির প্রসার স্রেফ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক আচার নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক মানবকল্যাণের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশ নিজেদের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্ক, অভিন্ন মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল পণ্যের বিশ্ববাজার সম্প্রসারণে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্পন্ন হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও এই খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বেশ আগ্রহী। তাই সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য আধুনিক তথ্য, উপযুক্ত জ্ঞান ও সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

বক্তব্যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর সফরের সফলতার কথা উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও সে দেশের সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে উষ্ণ ও সুসংগঠিত আতিথেয়তা প্রদান করেছেন, সেটির জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, বরং দু'দেশের জনগণের আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে তা উত্তরোত্তর সুদৃঢ় হচ্ছে। হালাল শিল্প এই বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

উক্ত সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান এবং বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএমসিসিআই) সভাপতি আনোয়ার শাহিদ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন