ইমরান খানকে হাসপাতালে হস্তান্তরের আদেশে পাকিস্তান সরকারের রিভিউ পিটিশন

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ
ইমরান খানকে হাসপাতালে হস্তান্তরের আদেশে পাকিস্তান সরকারের রিভিউ পিটিশন
আদিয়ালা কারাগারে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসাকে ঘিরে সর্বোচ্চ আদালত ও সরকারের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন আইনি টানাফোড়েন।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রিভিউ পিটিশন (পুনর্বিবেচনার আবেদন) ফাইল করেছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।

ডন সংবাদপত্রের তথ্যমতে, ইসলামাবাদের চিফ কমিশনারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল এই রিভিউ পিটিশনটি দায়ের করেছেন।

আইনি কারণ ও সরকারের বক্তব্য:

এক ভিডিও বার্তায় পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানান, শীর্ষ আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য তারা আবেদন জানিয়েছেন।

তিনি যুক্তি দেন, "পাকিস্তানের প্রচলিত 'জেল কোড' ও কারা বিধিমালা (Pakistan Prison Rules, 1978) অনুসারে কোনো সাজাপ্রাপ্ত বন্দির চিকিৎসা হয় কারাগারের ভেতরে চিকিৎসাকেন্দ্রে অথবা কোনো সরকারি হাসপাতালে হওয়ার নিয়ম। সরাসরি কোনো বন্দিকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিধান নেই। এতে করে অন্যান্য বন্দিদের চিকিৎসার বিষয়ে বৈষম্য তৈরি হবে ও আইনি জটিলতা দেখা দেবে।"

সরকারের দায়ের করা রিভিউ আবেদনের মূল যুক্তিগুলো হলো:

  • কারা বিধি ১৮৭-এর অননুসরণ: আবেদনটিতে বলা হয়, বন্দি স্থানান্তরের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া (Prison Rule 1978) আদালতের নজর এড়িয়ে গেছে।

  • অধিক্ষেত্র ও সমান সুযোগের প্রশ্ন: কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে নিজ পছন্দে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া 'বৈষম্যমূলক' আচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

  • মেডিকেল বোর্ডের মতামত: আবেদনকারীদের দাবি, স্থানান্তরের আগে স্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা উচিত ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ:

এর আগে শীর্ষ আদালত এক রায়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে’ স্থানান্তর এবং সেখানকার চিকিৎসায় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও স্বজনদের যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। বর্তমানে রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই নজর রাখছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনি মহল।

মন্তব্য করুন