দেশে বিদ্যুৎ সংকটের দায় বর্তমান সরকারের নয়: ডা. জাহেদ উর রহমান
দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের বিন্দুমাত্র দায় নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ যে কষ্টে রয়েছে, সেটির জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সরকারের জবাবদিহিতা:
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশাল জনসমর্থন নিয়ে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। যেকোনো মূল্যে জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী ও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আগামীতে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়া হবে যেখানে সরকারকে প্রতি ৫ বছর পর জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। যদি ভোটব্যবস্থা সঠিক থাকে, তবেই যেকোনো সরকার জনগণের সুবিধার কথা সার্বক্ষণিক বিবেচনা করতে বাধ্য থাকে।"
বিগত শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের সরকারগুলোর ভোট চুরির মানসিকতার কারণে দেশের জনগণকে কখনোই ব্যালট পেপার বা মূল ক্ষমতার নিয়ামক হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন ও আগামী পরিকল্পনা:
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন (ছয় মাস) পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করছেন। এখন থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক দপ্তরের কাজের কড়া মূল্যায়ন করা হবে, যাতে সরকারের সার্বিক পলিসি ও উন্নয়ন কর্মসূচি জনগণের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
শিশু-কিশোরদের বিকাশ ও সংস্কৃতি চর্চা:
শিশু ও তরুণদের মানসিক বিকাশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "আমাদের শিশুরা প্রযুক্তির নানা অপব্যবহার ও আসক্তিতে ডুবে যাচ্ছে। কেবল বইকেন্দ্রিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের খেলাধুলা, সংগীত ও নৃত্যের মতো সহপাঠ্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কেবল বিনোদন নয়, বরং এটিকে অর্থনীতি ও জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা ও সার্কাস থেকে অপসংস্কৃতি দূর করে সেগুলোকে সুস্থ ধারায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা কালচারাল কর্মকর্তা এবং সরকারের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
|