প্রাণিসম্পদের ফিডে ক্ষতিকর উপাদান ও অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধে ২ মাসের আলটিমেটাম
অনলাইন ডেস্ক: মাছ, মুরগি, হাঁস ও গৃহপালিত প্রাণিসম্পদের ফিড (খাদ্য) উৎপাদনে সরকারি গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে ক্ষতিকর উপাদান ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অভিযোগে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার।
এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি নির্দেশনানুযায়ী নিরাপদ ফিড উৎপাদন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরাসরি ফিড মিল ও মাঠ পর্যায়ের বিক্রিয়কেন্দ্রগুলোতে পণ্য পরীক্ষার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নিরাপদ খাদ্য ও সরকারি গাইডলাইন:
ফিড উৎপাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "আমাদের চলমান মৎস্য সপ্তাহের মূল লক্ষ্য শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং 'সেফ ফিশ' বা মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন খাতের ১৪ জন সচেতন ও সফল চাষিকে গোল্ড মেডেল প্রদান করছি।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ফিড উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতি ও গাইডলাইন রয়েছে এবং সেই অনুসারেই কারখানাগুলোকে খাদ্য প্রস্তুত করতে হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে উৎপাদনকারীদের সাথে একাধিক আলোচনা ও বৈঠক সম্পন্ন করেছে মন্ত্রণালয়।
মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা ও কঠোর নজরদারি:
মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "আমরা মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, কিছু ক্ষেত্রে সরকারি গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে ফিড তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে যেন তারা সার্বিক প্রক্রিয়া সংশোধন করে নেন। এই নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর সরকারি গাইডলাইনের বাইরে ফিড উৎপাদন করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। সরকারের প্রতিনিধি দল সরাসরি ফিড মিলগুলোতে ভিজিট করবে। পাশাপাশি বাজারে থাকা বিক্রয়কেন্দ্রগুলো (সেল সেন্টার) থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্ট করা হবে।"
সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, "মাছ, মুরগি, হাঁস কিংবা গরু-ছাগল—যে কোনো খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা যতটুকু খাদ্যই উৎপাদন করি না কেন, তা যেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে প্রকৃত অর্থে কল্যাণে আসে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সচেতন ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
|