জামিন পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তানজিন তিশা
শোবিজ ডেস্ক: অনলাইন বাটিক ও শাড়ি বিক্রেতার দায়ের করা প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলায় আদালতের নির্দেশে সশরীরে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় ও শীর্ষ অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তবে জামিন পাওয়ার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি এবং পুরো ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রিমার মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান তানজিন তিশা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ১২ জুলাই একই আদালত তাকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সশরীরে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই আইনি নির্দেশনা মান্য করতেই এদিন সকালে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিন নেন তিনি।
জামিন পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে বাদিকে ইঙ্গিত করে তানজিন তিশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যিনি আমার বিরুদ্ধে ২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন, তিনি নিজেও একজন নারী। তিনি তাঁর স্বামীর প্রশাসনিক বা অন্য ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার সাথে চরম অন্যায় করেছেন। আমাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমি চুপ করে থাকব না, আমার কাছে যেসব তথ্য প্রমাণ আছে তা খুব শিগগিরই সময়মতো সবার সামনে প্রকাশ্যে আনব।"
বিগত দেড় দশকের অভিনয় জীবনের সুনাম স্মরণ করে কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, "আজ মাত্র ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ির জন্য বলা হচ্ছে আমি নাকি চুরি বা আত্মসাৎ করেছি! গত ১৫ বছর ধরে আমি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশের বিনোদনজগতে কাজ করছি। দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে একটি শাড়ির জন্য আমাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, এটা আমার বা অন্য কোনো পেশাদার শিল্পীর জন্যই মানানসই নয়।"
মামলার বাদিকে বিনীত বার্তা দিয়ে তিশা যোগ করেন, "উনারও একটি ছোট সন্তান ও পরিবার রয়েছে। একজন নারী হয়ে আরেকজন কর্মজীবী নারীকে এভাবে অপমান ও হয়রানি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আশা করি, ভবিষ্যতে আর কোনো শিল্পীকে যেন রাজনৈতিক বা পারিবারিক ক্ষমতা দেখিয়ে এভাবে হয়রানি না করা হয়। আমরা আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল এবং ন্যায়বিচার পাব বলেই বিশ্বাস করি।"
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে শাড়ি পছন্দ করে নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধ না করে সমস্ত যোগাযোগের মাধ্যম ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার আদালতে এই বিশ্বাসভঙ্গের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
|