রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী অলি আহমদ, পরাজয় জেনেও লড়ার ২ কারণ প্রকাশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী অলি আহমদ, পরাজয় জেনেও লড়ার ২ কারণ প্রকাশ
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে কথা বলছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে থাকা বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। এমন রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝেও কেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হলেন—তার পেছনে সুস্পষ্ট দুটি কারণের কথা জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।

সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ লাইভ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এই অসম লড়াইয়ে নামার কারণ ব্যাখ্যা করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে তাঁর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী।

অলি আহমদের উল্লেখিত দুই কারণ:

১. গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান:

অলি আহমদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে আনতে এবং তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জয়-পরাজয়ের হিসেব ছাপিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে হবে। যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াই হলো প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মনে করেন, বিজয়ী হওয়াই শেষ কথা নয়, বরং প্রতিযোগিতাপূর্ণ আবহ বজায় রেখে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান জানানোই রাজনৈতিক দায়িত্ব।

২. ১১ দলীয় ঐক্যের রাজনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা:

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোট দেশের অন্যতম বড় ও প্রধান রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। অলি আহমদ জানান, এই জোট থেকে যদি কোনো প্রার্থী দাঁড় করানো না হতো, তবে জনমনে প্রশ্ন উঠত—কেন ১১ দল নীরব থাকলো বা কেন নিজেদের উপস্থিতি জানান দিলো না। তিনি জানান, "আমরা জনগণকে বার্তা দিতে চাই যে আমাদের স্পষ্ট বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান আছে এবং আমরা চাই প্রধান দল হিসেবে বিএনপিও যেন যোগ্য ও ভালো প্রার্থী নির্বাচন করে প্রতিযোগিতা বজায় রাখে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে সংসদীয় রাজনীতির প্রক্রিয়ায় বিরোধী শিবিরের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করতে চেয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট।

মন্তব্য করুন