তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুতে বাবার মামলা, গ্রেপ্তার দেখানো হলো দীপকে

প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুতে বাবার মামলা, গ্রেপ্তার দেখানো হলো দীপকে
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এই মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন এনায়েতুল করিম। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলা করার ক্ষেত্রে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করে তাহসিফের বাবা বলেছিলেন, আদালতে দৌড়াদৌড়ি ও ঝামেলার কারণে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেননি। তবে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তে সরকার আন্তরিক থাকবে বলে তিনি জোর আশা ব্যক্ত করেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ নিতে এসে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, “তাহসিফ আত্মহত্যা করার মতো মানুষ নয়, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার তুরাগ নদী থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফ সাউরির বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলার বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌ পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইও ছায়াতদন্ত চালাচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দীপ একেকবার একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। কখনো তিনি বলছেন তাহসিফকে বাসার সামনে রেখে চলে গেছেন, আবার কখনো বলছেন হাউস বিল্ডিং বা টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকা থেকে তারা আলাদা হয়ে যান। একপর্যায়ে দীপ দাবি করেন, একদল লোক বা পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ।

পিবিআই কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, “দীপের দেওয়া সব তথ্য ও বক্তব্য গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ধাওয়াকারীরা কারা ছিল বা তাঁরা মাদকাসক্ত ছিলেন কি না, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”