নারী-শিশু নির্যাতন ও হত্যা জাতিকে আতঙ্কিত করছে: হেফাজত

প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ
নারী-শিশু নির্যাতন ও হত্যা জাতিকে আতঙ্কিত করছে: হেফাজত

স্টাফ রিপোর্টার: একটি সভ্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং বর্বরোচিত হত্যার ধারাবাহিক ঘটনা সমগ্র জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব বা দীর্ঘসূত্রতা জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

আজ শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এসব কথা বলেন। রাজধানীর পল্লবীতে নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারের নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, “রাজধানীর পল্লবীতে নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে যেভাবে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা সেই ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের বাস্তবতারই এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। এমন পাশবিক, নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করেনি, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি নিষ্পাপ ও অবুঝ শিশুর জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও গভীর উদ্বেগজনক।” নেতৃদ্বয় নিহত শিশু রামিসার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহمর্মিতা জানান।

হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ এই দুই নেতা বলেন, “যদি এই জাতীয় জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির আওতায় না আসে, তবে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও পৈশাচিকতা আরও জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।” তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির সুষ্ঠু, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িত নরপশুদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এমন বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার দুঃসাহস না দেখায়।

বিবৃতিতে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, কেবল রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ বা পুলিশি তৎপরতা দিয়ে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগে কঠোর নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমেই কেবল নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে, বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম ও অভিভাবকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তাঁরা।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন