উৎপাদনমুখী ও প্রযুক্তি খাতে আরও ভারতীয় বিনিয়োগ চান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী এবং শিল্প খাতে আরও অধিক পরিমাণে ভারতীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন। অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্স) গৌরব কুমার আগারওয়াল।
আলোচনাকালে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত সরকারকে বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানির তাগিদ দেন গভর্নর।
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও সাবলীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এর জবাবে গভর্নর জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও সংস্কারমুখী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব একাধিক যুগোপযোগী নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বৈধভাবে অর্জিত বিনিয়োগকৃত মূলধন ও লভ্যাংশ খুব সহজেই নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন।
এছাড়া বৈঠকে আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশন প্রসারের অংশ হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার দেশব্যাপী আরও সম্প্রসারণ, আধুনিক আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু এবং এই ক্ষেত্রে ভারতের সফল প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।