সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু বাদ দিলে চুলে কী কী পরিবর্তন আসে?
জীবনযাপন ডেস্ক: শ্যাম্পু করার সময় প্রচুর ফেনা না উঠলে অনেকেই তৃপ্তি পান না শ্যাম্পু করার পর প্রচুর ফেনা উঠলেই চুল ভালোভাবে পরিষ্কার হয়েছে—এমন ধারণা অনেকেরই।]। অথচ এই ফেনা তৈরির নেপথ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান ‘সালফেট’ চুলের জন্য সব সময় উপকারী নয় কিন্তু এই অতিরিক্ত ফেনার পেছনে থাকা সালফেট চুল ও মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও সরিয়ে দিতে পারে।এটি ময়লা পরিষ্কারের পাশাপাশি মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে চুলকে রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তোলে তবে অতিরিক্ত শক্তিশালী ক্লিনজিংয়ের কারণে মাথার ত্বকের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেলও কমে যেতে পারে। এতে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও ফ্রিজি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। এজন্য বর্তমানে রূপচর্চাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে বছরের পর বছর সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারের পর হঠাৎ তা বাদ দিলে চুলে কিছু প্রাথমিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় তবে সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ছেড়ে দিলে শুরুতে চুলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
১. শুরুতে কেমন পরিবর্তন আসে?
চুল ভারী ও তেলতেলে মনে হওয়া: সালফেট বাদ দেওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহে মাথার ত্বক নতুন এই ক্লিনজিং পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় নেয় কারণ মাথার ত্বক নতুন ধরনের ক্লিনজিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেয়। ফলে চুল শুরুতে কিছুটা তেলতেলে বা ভারী লাগতে পারে সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলে প্রথম দিকে চুল আগের চেয়ে বেশি তেলতেলে বা ভারী মনে হতে পারে।
কম ফেনা ও মানসিক অনুভূতি: সালফেটমুক্ত শ্যাম্পুতে ফেনা কম হওয়ায় অনেকের মনে হতে পারে চুল ঠিকঠাক পরিষ্কার হচ্ছে না সালফেটমুক্ত শ্যাম্পুতে সাধারণত ফেনা কম হয়। ফলে আগের মতো ‘অতিরিক্ত পরিষ্কার ও শুষ্ক অনুভূতি’ না পাওয়ায় অনেকের মনে হতে পারে শ্যাম্পু ঠিকমতো কাজ করছে না। তবে কম ফেনা মানেই কম পরিষ্কার—এমন ধারণা ভুল। সাধারণত এই ট্রানজিশন বা পরিবর্তনের পর্বটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সময়টা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
২. দীর্ঘমেয়াদে প্রাপ্ত সুফল
প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকা: সময় গড়ালে মাথার ত্বকের তেল উৎপাদন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে, যা চুলের ভেতরের নমনীয়তা ও স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকের তেল উৎপাদন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে। এরপর চুলে কী পরিবর্তন আসতে পারে? সময় গড়ালে চুলে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে।
চুলের টেক্সচার উন্নত হওয়া: চুল ধীরে ধীরে মসৃণ, সফট ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কোঁকড়ানো, শুষ্ক বা কালার করা চুলে সালফেট-ফ্রি উপাদান চুলের কিউটিকল রক্ষা করে ভাঙন ও ফ্রিজিনেস কমায় বিশেষ করে শুষ্ক, কোঁকড়ানো, রং করা বা রাসায়নিকভাবে ট্রিট করা চুলে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু তুলনামূলকভাবে কোমল হতে পারে।]।
৩. যেভাবে সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ছাড়বেন
হঠাৎ পরিবর্তন না করে সপ্তাহে কয়েকদিন সাধারণ শ্যাম্পু ও কয়েকদিন সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু অল্টারনেট করে ব্যবহার শুরু করা ভালো একেবারে হঠাৎ পরিবর্তন না করে প্রথম কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত শ্যাম্পুর সঙ্গে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু পালা করে ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্যাম্পুর উপাদানে কোকো-গ্লুকোসাইড (Coco-Glucoside) কিংবা সোডিয়াম কোকয়েল আইসেথিওনেট (Sodium Cocoyl Isethionate) এর মতো মৃদু উপাদান আছে কি না দেখে নিন । কোকো-গ্লুকোসাইড ও সোডিয়াম কোকয়েল আইসেথিওনেটের মতো মৃদু ক্লিনজিং উপাদান সালফেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।]। শুধু বিজ্ঞাপন বা ‘সালফেট-ফ্রি’ ট্যাগ দেখে না কিনে, নিজের স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকের ধরন বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে শুধু ‘সালফেট-ফ্রি’ লেখা দেখলেই হবে না... নিজের চুলে কোনটি ভালো মানায় তা বুঝে পণ্য বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।