ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
লাইফস্টাইল ডেস্ক: রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপোটেনশন' বলা হয়। সাধারণত রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে নামলে তাকে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক থাকলেও, নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ দেখা দিলে তা বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেত হতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যমতে, হাইপোটেনশন প্রধানত দুই প্রকার: ১. অ্যাবসোলিউট হাইপোটেনশন: বিশ্রামকালীন অবস্থায় রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে থাকা। ২. অর্থোস্ট্যাটিক বা পোস্টুরাল হাইপোটেনশন: বসা বা শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর তিন মিনিটের বেশি সময় ধরে রক্তচাপ কম থাকা। এক্ষেত্রে উপরের প্রেসার (সিস্টোলিক) ২০ mmHg এবং নিচেরটি (ডায়াস্টোলিক) ১০ mmHg-এর বেশি কমে যায়।
লো ব্লাড প্রেসার সবসময় ভয়ের কারণ নয়, তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:
মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়া: দ্রুত উঠে দাঁড়ালে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে মাথা ঘোরে, এমনকি কেউ অজ্ঞান (সিনকোপ) হয়ে যেতে পারেন।
শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি: পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে শরীর ক্রমাগত ক্লান্ত বোধ করে।
অন্যান্য উপসর্গ: ঝাপসা দৃষ্টি, বমি বমি ভাব, মনোযোগে অসুবিধা, ত্বক ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন ও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, লো ব্লাড প্রেসারের কারণ হতে পারে:
শারীরিক অবস্থা: গর্ভাবস্থা, পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন), বা রক্তক্ষরণ।
অসুস্থতা: হার্ট ফেইলিওর, হার্টের ভালভ সমস্যা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা অ্যাডিসন রোগ।
ওষুধের প্রভাব: উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্ণতা বা হৃদরোগের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
জরুরি অবস্থা: সেপটিক শক (সংক্রমণ) বা অ্যানাফাইল্যাকটিক শক (তীব্র অ্যালার্জি)।
রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া বা ঘন ঘন উপসর্গ দেখা দেওয়া বিপদের লক্ষণ। এতে হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও কিডনি পর্যাপ্ত রক্ত পায় না। বিশেষ করে স্ট্রোকের রোগীদের ক্ষেত্রে নিম্ন রক্তচাপ আরোগ্য লাভে বড় বাধা সৃষ্টি করে। যদি লক্ষণগুলো তীব্র হয়, তবে ঘরে বসে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ