আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস আজ: উদযাপিত হচ্ছে আত্মার মেলবন্ধন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস আজ: উদযাপিত হচ্ছে আত্মার মেলবন্ধন

জীবনযাপন ডেস্ক:রক্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও জীবনের প্রতিটা চড়াই-উতরাইয়ে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থার স্থান হয়ে ওঠে যে মানুষটি—তিনিই বন্ধু। আনন্দের মুহূর্তগুলোকে দ্বিগুণ করা আর কঠিন বিপদে ছায়ার মতো পাশে থাকার এই অনন্য আত্মিক বন্ধনকে উদযাপন করতেই বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে 'আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস'।

প্রতি বছর ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধুত্ব দিবস পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটির মূল দর্শন হলো—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মাঝে শান্তি, সহমর্মিতা এবং সামাজিক ঐক্যের সেতু তৈরি করা।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বর্তমান সময়ের এই জনপ্রিয় দিবসের প্রথম সূচনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় দশক আগে। ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের 'পুয়ের্তো পিনাসকো' নামক ছোট এক শহরে ড. রামন আর্তেমিও ব্রাচো নামের এক ব্যক্তি তাঁর বন্ধুদের নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়াতে একটি নির্দিষ্ট দিন উদযাপনের প্রস্তাব করেন।

পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ বৈশ্বিক রূপ নেয় এবং ২০১১ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ জুলাইকে 'আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

চলমান বিশ্বে যখন বিভিন্ন কারণে বিভেদ, যুদ্ধ ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বাড়ছে, তখন এই দিবসটি বিশ্ববাসীকে মানবীয় মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেয়। সামান্য একটি কুশল বিনিময় কিংবা দূর থেকে একটু খোঁজ নেওয়ার মাধ্যমেও মানুষের মাঝে সুন্দর সামাজিক ও মানবিক মেলবন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব—সেই শিক্ষাই দেয় এই দিন।

সময়ের স্রোতে প্রযুক্তির কল্যাণে বন্ধুত্বের ধরন ও প্রকাশের মাধমেও এসেছে রূপান্তর। একসময় বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটত হাতে লেখা চিঠি কিংবা রঙ-বেরঙের শুভেচ্ছা কার্ডে। তবে বর্তমানে যুগের হাওয়ায় বার্তা লেনদেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো স্মৃতির ছবি পোস্ট করে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানোই নতুন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাধ্যম বদলালেও বন্ধুত্বের অন্তর্নিহিত আবেগ ও টান এখনও অটুট রয়েছে।

আজকের এই শুভ দিনে বিশ্বব্যাপী বার্তা দেওয়া হচ্ছে—বন্ধুত্ব শুধু একদিনের উদযাপনে সীমাবদ্ধ রাখার কিছু নয়, বরং চরম বিপদে পারস্পরিক পাশে থাকার অঙ্গীকারই হলো মানুষের আসল শক্তি।

মন্তব্য করুন