ভোজনরসিকদের স্বর্গরাজ্য: বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ খেতাব পেল যে শহর

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ণ
ভোজনরসিকদের স্বর্গরাজ্য: বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ খেতাব পেল যে শহর

জীবনযাপন ডেস্ক: ভাপ ওঠা ধোঁয়াচ্ছন্ন গরম মোমো আর সাথে ঝাল-টক চাটনির অনন্য স্বাদ পছন্দ করেন না, এমন ভোজনরসিক খুঁজে পাওয়া ভার। এশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকা, আধুনিক স্ট্রিট ফুড ও রেস্তোরাঁর তালিকায় মোমো এখন দারুণ জনপ্রিয় এক নাম। তবে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্ত থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ বলা হয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুকে।

মোমোর প্রতি স্থানীয়দের গভীর ভালোবাসা, শত বছরের দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং অনন্য রেসিপির জন্য কাঠমান্ডু বিশ্বব্যাপী এই বিশেষ পরিচিতি ও সম্মান লাভ করেছে।

বর্তমানে কাঠমান্ডু যেন এক বিশাল মোমো নগরী। তথ্যমতে, কেবল এই এক শহরের অলিগলিতে রয়েছে প্রায় ৮ হাজারের বেশি ছোট-বড় মোমোর দোকান, ক্যাফে ও স্ট্রিট ফুড স্টল। প্রাতরাশ থেকে শুরু করে রাতের খাবার—স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিদেশি পর্যটকদের দিনের যেকোনো সময়ে প্রথম পছন্দ হরেক পদের মোমো।

তিব্বত থেকে নেপালে আগমন খাদ্য গবেষকদের মতে, মোমোর প্রকৃত উৎপত্তি তিব্বতে হলেও এটি ডালপালা মেলে পূর্ণতা পায় নেপালে। প্রাচীনকালে তিব্বতের সঙ্গে কাঠমান্ডুর ব্যবসায়ী ও বণিকদের গভীর সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। বাণিজ্যপথে যাতায়াতের মাধ্যমেই তিব্বতিদের হাত ধরে নেপালে এই খাবারের অনুপ্রবেশ ঘটে।

পরবর্তীতে নেপালিরা তাঁদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী মসলা, ধনেপাতা, মাংস ও সবজির নানা পুর এবং স্থানীয় টমেটো-তিল দিয়ে তৈরি স্পেশাল ঝাল চাটনি যুক্ত করে এতে নতুন মাত্রা দেন। ধীরে ধীরে এই খাবারটি তিব্বতি পরিচয় ছাপিয়ে নেপালের প্রধানতম জাতীয় ও সাংস্কৃতিক খাবারের প্রতীক হয়ে ওঠে, যা কাঠমান্ডুকে এনে দিয়েছে বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’র মুকুট।

মন্তব্য করুন