ডিজিটাল আসক্তি কমানোর সহজ কিছু কৌশল

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল আসক্তি কমানোর সহজ কিছু কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক: সকালে ঘুম থেকে জেগেই স্মার্টফোনে চোখ রাখা কিংবা রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত স্ক্রিন স্ক্রল করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির এই অতি-ব্যবহার আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ডিজিটাল ফ্যাটিগ’ বা ডিজিটাল ক্লান্তি। আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) এক প্রতিবেদনে প্রযুক্তি আসক্তি কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপনের কিছু সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।

১. শান্তভাবে দিন শুরু করুন: দিনের প্রথম ৩০ মিনিট ফোন থেকে দূরে থাকুন। ঘুম থেকে উঠেই নোটিফিকেশন চেক না করে জানালার পাশে বসুন, একটু হাঁটাহাঁটি করুন বা চা-কফি পানের মাধ্যমে নিজেকে সময় দিন। এটি আপনার সারাদিনের মানসিক অস্থিরতা কমিয়ে আনবে।

২. মেনে চলুন ‘২০-২০-২০’ নিয়ম: কাজের প্রয়োজনে যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি অত্যন্ত কার্যকর। প্রতি ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের ওপর চাপ কমবে। এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিটের বিরতি নিয়ে একটু হেঁটে নিন।

৩. নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ: অপ্রয়োজনীয় সব অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। ফোনের ঘনঘন শব্দ মনোযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সারাদিন বারবার ফোন না দেখে মেইল বা মেসেজ চেক করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন।

৪. ‘নো-ডিভাইস জোন’ তৈরি: আপনার শোবার ঘর এবং ডাইনিং টেবিলকে প্রযুক্তি-মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করুন। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এই সময়ে ফোনের বদলে বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।

৫. বাস্তব জীবনে সময় কাটানো: ভার্চুয়াল জগতের লাইক-কমেন্টের চেয়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ফলদায়ক। সপ্তাহে অন্তত একদিন কিছুটা সময় কাটান কোনো প্রযুক্তি ছাড়াই।

সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই ডিজিটাল আসক্তি জয় করা সম্ভব। প্রযুক্তি হোক আপনার প্রয়োজনে, আসক্তির জন্য নয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন