অনলাইন ডেস্ক: মানুষ সাধারণত জীবনে যা পেয়েছে, তার চেয়ে কী পায়নি—তা নিয়েই বেশি চিন্তিত থাকে। এই না-পাওয়ার বেদনা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো ‘কৃতজ্ঞতা’। কৃতজ্ঞতা কেবল কাউকে ‘ধন্যবাদ’ বলা নয়, বরং নিজের যা আছে তা স্বীকার করে নিয়ে সন্তুষ্টি খুঁজে পাওয়া। আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কৃতজ্ঞতার সুফল ও অভ্যাসের উপায়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
মানুষের মন স্বভাবতই নেতিবাচক বিষয় বা অভাবের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। এই প্রবণতা আমাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং শূন্যতার দিকে ঠেলে দেয়। কৃতজ্ঞতা একটি লেন্সের মতো কাজ করে, যা আমাদের মনোযোগকে অভাব থেকে সরিয়ে প্রাপ্তির দিকে নিয়ে যায়। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো আনন্দগুলো, যেমন—সকালের রোদ বা প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডাকে উপলব্ধি করতে শেখায়।
কৃতজ্ঞতা কেবল ইতিবাচক চিন্তা নয়, এটি আপনাকে বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে শেখায়। আগামীকালের দুশ্চিন্তা বা গতকালের আফসোস কমিয়ে এটি মনে প্রশান্তি আনে। জীবন থেকে আরও বেশি কিছু পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি দিয়ে এটি আত্মিক শান্তি নিশ্চিত করে।
সকালের শুরু: ঘুম থেকে উঠে ফোন না দেখে নতুন একটি দিন পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
রাতের মূল্যায়ন: ঘুমানোর আগে সারাদিনের অন্তত তিনটি ভালো ঘটনার কথা মনে করুন।
বিরক্তির মাঝেও ইতিবাচকতা: কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও অন্তত একটি ভালো দিক খোঁজার চেষ্টা করুন।
ধন্যবাদ জানানো: আপনার জীবনে অন্যদের অবদানের জন্য নিয়মিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এটি সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
কৃতজ্ঞতা কোনো এককালীন বিষয় নয়। এটি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অভ্যাসে পরিণত করতে হয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট কৃতজ্ঞতাবোধ ধীরে ধীরে আপনার মস্তিষ্ককে ইতিবাচকতার দিকে চালিত করবে এবং জীবন সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। ছোট এই পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত জীবনে বড় সুখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি/সকালবেলা