লন্ডনের হোটেলে সৌদি রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদের রহস্যময় মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ
লন্ডনের হোটেলে সৌদি রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদের রহস্যময় মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি অভিজাত পাঁচতারকা হোটেলে অ্যালকোহল, বিষাক্ত পার্টি ড্রাগস এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের অতিরিক্ত ওষুধ একসঙ্গে সেবনের ফলে মাত্র ২৯ বছর বয়সে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে এক সৌদি রাজপুত্রের। যুক্তরাজ্যের তদন্তকারী আদালতের প্রকাশ করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মৃত রাজপুত্রের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন জালাউই আল সৌদ। গত ২৫ নভেম্বর কেনসিংটনের ম্যারিয়ট হোটেলের একটি বিলাসবহুল কক্ষের বাথরুম থেকে তাঁর পোশাক পরিহিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনার আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হয়, যেখানে একাধিক ক্ষতিকর উপাদানের বিষক্রিয়ায় হৃদযন্ত্র অচল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, রাজপুত্র আবদুল্লাহ গত ১৯ নভেম্বর প্রতি রাতে ৬০০ ইউরো মূল্যের লন্ডনের ওই বিলাসবহুল হোটেলে ওঠেন। মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় ধূমপানের উদ্দেশ্যে তাঁকে সিসিটিভির ফুটেজে শেষবারের মতো জীবিত অবস্থায় ঘুরতে দেখা যায়।

পরদিন সকালে হোটেলের ঘরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পঞ্চম তলার কক্ষে ঢুকে বাথরুমের মেঝেতে সম্পূর্ণ পোশাক পরা অবস্থায় তাঁকে সংজ্ঞাহীন পড়ে থাকতে দেখেন। জরুরি সেবায় খবর দিলে প্যারামেডিক দল পৌঁছে তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা যায়, রাজপুত্রের রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল উপস্থিত ছিল—যা যুক্তরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ। চিকিৎসকদের মতে, কেবল এই পরিমাণ অ্যালকোহলই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কোমা বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

পরীক্ষায় তাঁর রক্তে অ্যালকোহল ছাড়াও ‘জিএইচবি’ (Gama-Hydroxybutyrate) নামক একটি প্রাণঘাতী কৃত্রিম পার্টি ড্রাগের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। এর পাশাপাশি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ জ্যানাক্স, প্রেগাবালিন ও গাঁজার উপাদানও পাওয়া যায়।

তদন্তে আরও জানা যায়, মৃত্যুর আগে সৌদি এই রাজপুত্র অ্যালকোহল ও বিভিন্ন উপাদানের আসক্তিতে ভুগছিলেন। আসক্তি কাটাতে তিনি ২০২৫ সালের আগস্টে লন্ডনের রোয়েহ্যাম্পটনের ‘প্রায়োরি ক্লিনিকে’ ভর্তি হয়ে ডিটক্স থেরাপি নেন। পরবর্তীতে অন্য আরেকটি কেন্দ্রেও চিকিৎসা সম্পন্ন করেছিলেন।

তবে সহকারী করোনার জিন হারকিন ঘটনার যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও আলামত পর্যবেক্ষণ শেষে এটিকে আত্মহত্যার কোনো ঘটনা নয়, বরং 'দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু' (Accidental Death) হিসেবে রায় প্রদান করেন।

এই রায়ের পর সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রিন্স আবদুল্লাহর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়। পরিবারের সূত্রে জানানো হয়েছে, রিয়াদের ভিআইপি ইমাম তুরকি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে ধর্মীয় নিয়ম মেনে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

মন্তব্য করুন