রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে এগিয়ে রাখলেন আসিফ নজরুল
জাতীয় প্রধান: শারীরিক ও মানসিক তীব্র অসামর্থ্যতার কারণ দেখিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর শূন্য পদে ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন—তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই সাংবিধানিক শূন্যতার মুহূর্তে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সবচেয়ে উপযুক্ত এবং যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধ বা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই মতামত ব্যক্ত করেন ড. আসিফ নজরুল।
নিজের ব্যক্ত করা মতামত সংক্রান্ত ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে লেখেন, "আমার সুচিন্তিত বিচারে, রাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই সবচেয়ে যোগ্যতম ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দীর্ঘ একনায়কতান্ত্রিক ও অত্যাচারী শাসনের সময় তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব সামলে বীরত্বের সাথে দলের হাল ধরে রেখেছেন, প্রশাসনিকভাবে বহুবার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অপরিমেয় রাজনৈতিক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বর্তমান সময়ের রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে বিবেচনা করলে তিনি অত্যন্ত মার্জিত, মডারেট, পরিচ্ছন্ন চরিত্রের অধিকারী এবং সুবক্তা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।"
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশাসনিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল আরও যোগ করেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর এক সুদীর্ঘ বোঝাপড়া, বিশ্বাস ও গভীর সহযাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট তিনি সর্বদা নিজের সন্তানসম স্নেহের পাত্র ছিলেন। দলে ও দেশের রাজনীতিতে আরো কয়েকজন সম্মানিত ও উপযুক্ত ব্যক্তি নিশ্চয়ই আছেন; তবে সবদিক সামগ্রিক বিবেচনায় নিলে মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের প্রতিনিধিত্বের মধ্যে কাউকে যদি রাষ্ট্রপ্রধান বেছে নেওয়া হয়, তবে তিনিই হবেন এককভাবে সেরা প্রার্থী।"
এর আগে আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে পাঠানো পদত্যাগপত্রে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি নিজের জটিল স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে লেখেন, "আমি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছি। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং জটিল কিডনি ব্যাধিতে আক্রান্ত। ইতোমধ্যে আমার হৃদযন্ত্রে ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক মেডিকেল টেস্টে আমার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক বিরল রোগ ধরা পড়েছে, যার ফলে আমি মাঝেমধ্যে ক্ষণিক সময়ের জন্য সংজ্ঞাহীন বা অচেতন হয়ে পড়ি। এসব ব্যাধির কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার প্রভাবে রাষ্ট্রপতির অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের প্রশাসনিক দায়িত্বভার সামলানো আমার পক্ষে আর সম্ভবপর হচ্ছে না। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান মেনে আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
|