আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখো ফিলিস্তিনি আজ ১৫ মে পরম বেদনার ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় দিবস পালন করছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় নিজেদের পৈতৃক ভূমি ও ঘরবাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বিতাড়নের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়।
১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ—অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। সে সময় ৪০০-এর বেশি গ্রাম ও শহর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনিরা এই জাতিগত নিধন ও উচ্ছেদকে ‘নাকবা’ বা মহা বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেন। আজ দীর্ঘ দশক পেরিয়ে গেলেও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী পশ্চিম তীর, গাজা, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে আজও তাঁদের পৈতৃক বাড়ির চাবি ও নথিপত্র সযত্নে আগলে রেখেছেন, যা তাঁদের ফেরার স্বপ্নের প্রতীক।
এবারের নাকবা দিবস এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে যখন গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ পুনরায় বাস্তুচ্যুত হয়ে এক সংকীর্ণ এলাকায় অবরুদ্ধ রয়েছেন। যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার বিশাল জনসংখ্যা এখন ভূমধ্যসাগরের তীরে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক চিলতে জমিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, যার বাকি অংশ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা নিয়মিতভাবে তাঁদের ভিটেমাটিতে ফেরার অধিকার (Right of Return) দাবি করে আসছেন, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৪ নম্বর প্রস্তাবে স্বীকৃত। ফিলিস্তিনিদের কাছে গাজার বর্তমান যুদ্ধ ও ধারাবাহিক উচ্ছেদ প্রমাণ করে যে, ‘নাকবা’ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা আজও তাঁদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে চলেছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা