চিকিৎসা শেষে আদিয়ালা কারাগারে ফেরানো হলো ইমরান খানকে
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে চিকিৎসার পর আবারও রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মধ্যরাতে তাকে কড়া নিরাপত্তায় আদিয়ালা কারাগার থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে’ নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল চেকআপ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে তাকে আবারও কারাগারে ফিরিয়ে আনে কারা কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই-এর বক্তব্য ও স্বাস্থ্যের অবনতি:
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া এবং পরবর্তীতে পুনরায় কারাগারে ফেরত আনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তার দল পিটিআই-এর মুখপাত্র।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে টানা তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকার কারণে ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে। পিটিআই সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার সুবিধাসহ হাসপাতালে রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান:
এর আগে গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে বের করে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার নিজস্ব চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শেহবাজ শরিফের সরকার সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করলেও বৃহস্পতিবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সরকারের সেই আবেদন ফেরত পাঠান এবং ইমরান খানের চিকিৎসার নজরদারিতে একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ড গঠনের আদেশ বহাল রাখেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক ও দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইমরান খান এবং তার রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, নির্বাচনে অযোগ্য ও রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে রাখতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
|