মেরুল বাড্ডায় বেদেপল্লীতে কুরআন শিক্ষার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ণ
মেরুল বাড্ডায় বেদেপল্লীতে কুরআন শিক্ষার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আমিরুল ইসলাম লুকমান, সকালবেলা অনলাইন: রাজধানীর আফতাবনগর সংলগ্ন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির পাদদেশে অবস্থিত মেরুল বাড্ডার বেদেপল্লী। বিগত ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে প্রায় ৬০টি অবহেলিত মুসলিম পরিবার। যথাযথ শিক্ষার অভাব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ঈমানবিধ্বংসী ও ভ্রান্ত গোষ্ঠীর অপতৎপরতায় এই জনগোষ্ঠীর দ্বীন ও আকিদা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

কুরআন-হাদিসের সঠিক আলো না পেলে সমাজের এই পিছিয়ে পড়া শিশুরা নিরক্ষর ও পথভ্রষ্ট হয়ে বড় হবে। একপর্যায়ে এদের একটি বড় অংশ অপরাধপ্রবণতা, মাদক কিংবা জুয়ার সাথে জড়িয়ে পড়ার মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে, যা একটি নিরাপদ দেশ ও সমাজ বিনির্মাণের বড় বাধা। তাছাড়া সমাজের অবহেলিত ও উপেক্ষিত এই শ্রেণিকে যদি ঈমানের জোয়ারে আর দ্বীনি পরিবেশে আনা না যায়, তবে নিজেদের দ্বীন-ঈমানের ওপর টিকে থাকার নিশ্চয়তাও সংঙ্কটে পড়ে। তা ছাড়া প্রতিটি মুসলমানেরই পৃথিবীতে অবস্থানকালে কুরআন-হাদিসের বিধান মেনে চলা আবশ্যক, অন্যথায় পরকালে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই। তাই এই অবহেলিত মানুষের মাঝে ঈমানের চেতনা জাগ্রত করা সকল চিন্তাশীল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।

সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বাড্ডার ঐতিহ্যবাহী মিফতাহুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি আব্দুল মজিদের সংগঠন ‘আন নুর কুরআন শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ এই বেদেপল্লীতে দ্বীনি শিক্ষা ও মহৎ মেহনত নিয়ে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় মেরুল বাড্ডা মাছের আড়ত জামে মসজিদে শুরু হয়েছে প্রতিদিনের মক্তব ও দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রতিদিন সকাল ৭টায় শিশুদের এবং বাদ এশা বয়স্ক পুরুষদের দ্বীনি শিক্ষাসহ কুরআন শেখানো হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে শিশুদের মক্তবে ৪৫ জন এবং বয়স্কদের ক্লাসে ৩১ জনসহ মোট ৭৬ জন শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। যারা এখানে কুরআন শিখতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ যোগাতে প্রতিদিন মেহমানদারির ব্যবস্থাও করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, সঠিক দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে বেদে পল্লীর এই মানুষগুলো একসময় সমাজ ধ্বংসের পরিবর্তে সমাজ নির্মাণের কারিগর হয়ে উঠবে এবং ঈমান ও মুসলমানিত্ব নিয়ে কবরে যেতে পারবে। এই ৬০টি পরিবারের শিশু ও বড়দের মাঝে দ্বীনের ভিত্তি শক্ত করা এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ঈমান সুরক্ষার জন্য এই কার্যক্রম একটি বড় উসিলা।

তবে অবহেলিত এই মানুষগুলোর জন্য নিয়মিত শিক্ষক রাখা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং সার্বিক পরিচালনা ব্যয় নির্বাহে সর্বস্তরের দ্বীনদার মুসলমানদের সহযোগিতা ও দোয়ার একান্ত প্রয়োজন। এই মহৎ দ্বীনি খেদমত ও শিক্ষার প্রজেক্টে যেকোনো ধরনের আর্থিক সাহায্য ও অনুদান পাঠাতে অথবা যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে: ০১৮১৬৭০৩৫৭২ (নগদ ও বিকাশ পার্সোনাল) নম্বরে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন