চীন ও নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ণ
চীন ও নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল
বন্যাদুর্গত এলাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। নেপালে উদ্ধার অভিযানের সপ্তম দিনে এসে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে বন্যায় অন্তত ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত তিব্বত অঞ্চলে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর ফলে গত বুধবার সীমান্ত এলাকায় শুরু হওয়া এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগে দুই দেশ মিলিয়ে মোট নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে।

ভয়াবহ এই প্লাবনে দুই দেশের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদ ও সীমান্ত অবকাঠামো ভেসে গেছে। নেপালে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতার মাঝে নিখোঁজের সংখ্যা কিছুটা কমে বর্তমানে ৩ হাজার ৯১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে বেশ কিছু মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। অপরদিকে চীনের তিব্বত অংশে এখনও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই দেশ জুড়ে নিখোঁজের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬২ জনে।

উভয় দেশেই নিখোঁজদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি পর্যটক, পর্বতারোহী ও তীর্থযাত্রী। নেপালের নিখোঁজ তালিকার মধ্যে ৩০টির বেশি দেশের ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। চীনে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা ২৩টি দেশের ২৬১ জন।

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ও বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (নয়াদিল্লি) জানিয়েছে, নেপালে ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৮৫ জন নাগরিকের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ছাড়া বিভিন্ন দূতাবাস ও নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৬২ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৪২ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।

এদিকে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, নেপালের উজান থেকে ভাটির দিকে নেমে আসা বিভিন্ন নদী থেকে এ পর্যন্ত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণায় এগুলো নেপালের বন্যায় ভেসে আসা মানুষের মরদেহ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এসব মরদেহের ডিএনএ ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চালাচ্ছে; পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে আনুষ্ঠানিক মোট মৃত্যু সংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

দুর্গত পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সড়ক ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় সেনা ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনুসন্ধান চালাতে হচ্ছে।

 (সূত্র: এএফপি)

মন্তব্য করুন