বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকলেও নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ণ
বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকলেও নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোতে বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও মূল্যস্ফীতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক একযোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন যে, নতুন পে স্কেলের কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল ব্যয়ে রাতারাতি আকাশচুম্বী বা অস্বাভাবিক কোনো উল্লম্ফন ঘটবে না। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্রশাসনে কর্মরত অনেক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার মূল বেতন নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) যুক্ত হতে হতে ইতিমধ্যে নতুন সম্ভাব্য পে স্কেলের কাঠামোর অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরও তাঁদের ক্ষেত্রে বেতন এক লাফে খুব বেশি বাড়বে না।”

পে স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি সক্ষমতা ও অর্থসংস্থান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে—হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণ অর্থ মানুষের হাতে চলে এলে বাজারে তার কী প্রভাব পড়বে এবং সরকার এই বিপুল অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় কোথা থেকে নির্বাহ করবে? তাঁদের আশ্বস্ত করে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বেতন বাড়লে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কিছুটা বাড়বে এবং সেই ব্যয় যথাযথভাবে মেটানোর জন্য সরকারের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান ও বরাদ্দ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।”

তবে বাজারে সাময়িক চাপ তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে না দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “বেতন বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার যে ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি হয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়। তবে এই মূল্যস্ফীতি যেন জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় মুদ্রানীতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেষ্ট থাকবে। এর পাশাপাশি বাজার তদারকি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

মন্তব্য করুন