সিরিয়া থেকে ৫ সহস্রাধিক আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর

সিরিয়া থেকে ৫ সহস্রাধিক আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর

সিরিয়া থেকে ৫,৭০০-এর বেশি সন্দেহভাজন আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৩ দিনব্যাপী এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের আইএস যোদ্ধাদের সিরিয়ার আটক কেন্দ্র থেকে ইরাকি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সেন্টকম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।     

সেন্টকম বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ২৩ দিনের এই অভিযানে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার আটক কেন্দ্রগুলো থেকে ৫,৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আইএস যোদ্ধাকে নিরাপদে ইরাকি হেফাজতে স্থানান্তর করেছে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ইরাকে একটি রাতের ফ্লাইটের মাধ্যমে অভিযানটি সম্পন্ন হয়, যাতে আইএস বন্দিদের নিরাপদে আটক রাখা নিশ্চিত করা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এসব বন্দি কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) পরিচালিত কারাগারে আটক ছিলেন। তবে সম্প্রতি সময়ে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা পুনর্দখল করলে বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। সম্ভাব্য কারাগার ভাঙার ঝুঁকি এড়াতেই তাদের ইরাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

ইরাকের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো-অপারেশন (এনসিআইজেসি) জানিয়েছে, ৫,৭০৪ জন আইএসআইএল বন্দি ইরাকে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে ৩,৫৪৩ জন সিরিয়ান, ৪৬৭ জন ইরাকি এবং আরও ৭১০ জন অন্যান্য আরব দেশের নাগরিক। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ৯৮০ জনের বেশি বিদেশিও রয়েছেন।

এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-হোল শিবিরে আইএস যোদ্ধাদের স্বজনদের রাখা হতো। সম্প্রতি পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সেখান থেকে অধিকাংশ বিদেশি পরিবার চলে গেছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব বন্দির ভবিষ্যৎ ও তাদের বিচার প্রক্রিয়া এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, আইএস ২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় ইরাক ২০১৭ সালে এবং এসডিএফ ২০১৯ সালে গোষ্ঠীটিকে পরাজিত করে। এরপর হাজার হাজার সন্দেহভাজন যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে বিভিন্ন কারাগার ও শিবিরে রাখা হয়েছে।  

মন্তব্য করুন