এআই শিল্পের সমালোচনা করলেন প্যালান্টির সিইও অ্যালেক্স কার্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ণ
এআই শিল্পের সমালোচনা করলেন প্যালান্টির সিইও অ্যালেক্স কার্প

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) খাতের বর্তমান ব্যবসায়িক নীতি ও এর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির ডেটা অ্যানালিটিক্স ও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের (Palantir) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্স কার্প। বিশেষ করে এই খাতের শীর্ষ দুই পরাশক্তি ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রপিক (Anthropic)-এর টোকেনভিত্তিক বিলিং বা মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে তিনি বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।

সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসিকে (CNBC) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কার্প সোজাসুজি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক এআই শিল্পের কিছু কিছু অংশ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা এখন ‘একেবারেই পাগলামি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বর্তমানে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি কিংবা অ্যানথ্রপিকের ক্লদ-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (LLM) ব্যবহারকারীর কতটুকু এআই ডেটা প্রসেস বা ব্যবহার হয়েছে, অর্থাৎ ‘টোকেন’-এর পরিমাণ হিসাব করে অর্থ বা চার্জ কেটে নেয়। প্রযুক্তিগত ভাষায়, টোকেন বলতে এআই মডেলগুলো যে ছোট ছোট শব্দ, ক্যারেক্টার বা লেখার অংশ পড়ে, বিশ্লেষণ করে এবং নতুন করে তৈরি করে, সেগুলোর গাণিতিক একককে বোঝায়।

অ্যালেক্স কার্পের দাবি, বিশ্বজুড়ে অনেক বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এই টোকেন কেনার জন্য এআই কোম্পানিগুলোকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই বিপুল খরচের বিপরীতে তারা কাঙ্ক্ষিত বা ফলপ্রসূ কাজের আউটপুট পাচ্ছে না। এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই এআই মডেলগুলো ব্যবহার করার চক্করে সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অবলীলায় তাদের নিজস্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন ব্যবসায়িক ডেটা এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সার্ভারে তুলে দিচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “অনেক স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন পর্দার আড়ালে চরম উদ্বিগ্ন। তাদের গভীর আশঙ্কা, এই থার্ড-পার্টি এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের বহু কষ্টের মেধাস্বত্ব (IP) এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অন্য কোনো টেক জায়ান্টের হাতে চলে যেতে পারে। তাই যেকোনো দেশের সরকার এবং দূরদর্শী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত—নিজেদের ব্যবহৃত এআই মডেলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা। ডেটা ও মডেলের পুরো চাবিকাঠি কখনোই বাইরের কোনো এআই কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।”

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্যালান্টির সিইও আরও যোগ করেন, কোনো দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক কাজে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ বাইরের বা তৃতীয় কোনো বাণিজ্যিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে সম্পূর্ণ সঁপে দেওয়া দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের অন্যতম প্রধান ডেটা সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের সাথে অ্যানথ্রপিকের এআই ব্যবহারের মূল নীতি নিয়ে আগে থেকেই বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। অ্যানথ্রপিক শুরু থেকেই তাদের তৈরি প্রযুক্তি কোনো দেশের গণনজরদারি (Mass Surveillance) কিংবা স্বয়ংক্রিয় মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্র (Autonomous Weapons) তৈরিতে ব্যবহার করার সম্পূর্ণ বিরোধী। অপরদিকে, প্যালান্টির সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও সামরিক গোয়েন্দা খাতে সফটওয়্যার ও ডেটা সুবিধা দিয়ে থাকে এবং সম্প্রতি তারা ইলন মাস্কের তৈরি ‘এক্স এআই’ (xAI)-এর মতো বিকল্প ও শক্তিশালী এআই মডেলের ব্যবহার ও ইন্টিগ্রেশন নিজেদের সিস্টেমে বহুগুণ বাড়িয়েছে।

কার্পের ভাষায়, বর্তমান করপোরেট বা ব্যবসা জগতের অনেকেই মনে করছেন, এআই নিয়ে প্রারম্ভিক সময়ে বাজারে যতটা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বা দক্ষতার ক্ষেত্রে ততটা বৈপ্লবিক সুবিধা এখনই পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই কারণেই বড় বড় গ্রাহকরা বর্তমান এআই কোম্পানিগুলোর মনোপলি ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন।

মন্তব্য করুন