স্থায়ীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ণ
স্থায়ীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা শিক্ষামন্ত্রীর
ইউনেস্কোর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (ফাইল ছবি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে (যেমন— ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা বা পৌরসভা নির্বাচন) শিক্ষকদের অংশগ্রহণ না করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও পাঠদানে শিক্ষকদের পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে সরকার যেন দ্রুত এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করে, সেই বিষয়েও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর অভিজাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব ও স্থানীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি গুরুত্বের সাথে ভাবছি, আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতে শিক্ষকরা যেন কোনোভাবেই পার্টিসিপেট (অংশগ্রহণ) না করেন। আমি চাই সরকার যেন এ ব্যাপারে একটি কঠোর আইনি কাঠামো বা আইন তৈরি করে, যাতে শিক্ষকরা লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচনে) প্রার্থী হিসেবে না দাঁড়াতে পারেন। নির্বাচনে যেতে হলে তারা যেন প্রথমে নিজেদের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে চলে যান, তারপর রাজনীতি বা নির্বাচন করেন।”

শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সার্বিক পেশাগত উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্র ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সেই বিনিয়োগের যেন আমরা সঠিক ও শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি। সেই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়েই প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।” এই রূপান্তরের সফলতা দেশের সর্বস্তরের নাগরিক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে আগামীর মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

একই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও সহযোগী দেশগুলোকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি দাতা গোষ্ঠীগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক মহল থেকে পাওয়া প্রতিটি অনুদান ও অর্থ যেন দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করছে বর্তমান মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য করুন